সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ০৩:৫১ পূর্বাহ্ন
আবারও আসছে করোনা ঢেউ, আপনি প্রস্তুত তো?
অনলাইন ডেস্ক
বিশ্বজুড়ে আবারও বাড়ছে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ। একের পর এক নতুন সাব ভ্যারিয়েন্ট ধরা পড়ছে, যা বিশ্ববাসীর উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশেও সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়েছে সতর্কতামূলক নানা উদ্যোগ। দেশের প্রবেশদ্বারগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য ৭ দফা করণীয় জানিয়েছে সংস্থাটি।
বুধবার (১১ জুন) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব সতর্কতার কথা জানান অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবু জাফর।
তিনি বলেন, পৃথিবীর নানা প্রান্তে করোনা ভাইরাস আবারও থাবা বসাতে শুরু করেছে। কয়েকটি নতুন সাব ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে, যা আমাদের জন্যও ঝুঁকির বার্তা বহন করছে। আন্তর্জাতিক যাত্রীদের মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কায় দেশের বিমান, স্থল ও নৌ বন্দরের আইএইচআর ডেস্কগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ সময় ডা. আবু জাফর জনগণের সচেতনতা বাড়াতে ও ভাইরাস প্রতিরোধে ৭টি করণীয় তুলে ধরেন—
১. ভিড় এড়িয়ে চলুন। অতি প্রয়োজনে বাইরে গেলে মাস্ক ব্যবহার করুন।
২. নিয়মিত মাস্ক পরুন, বিশেষ করে শ্বাসতন্ত্রজনিত রোগ থেকে রক্ষা পেতে।
৩. হাঁচি-কাশির সময় নাক ও মুখ ঢেকে নিন (কনুই বা টিস্যু দিয়ে)।
৪. ব্যবহৃত টিস্যু ফেলার আগে ঢাকনাযুক্ত ঝুড়ি ব্যবহার করুন।
৫. সাবান-পানি বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড হাত ধুয়ে ফেলুন।
৬. চোখ, মুখ বা নাকে হাত দেওয়ার আগে হাত পরিষ্কার করুন।
৭. সংক্রমিত ব্যক্তির কাছ থেকে ন্যূনতম ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখুন।
সংবাদ সম্মেলনে করোনা শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার প্রস্তুতিও তুলে ধরা হয়।
অধ্যাপক ডা. আবু জাফর জানান, আবারও আরটি-পিসিআর ও র্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষার ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। একইসঙ্গে পর্যাপ্ত টিকা, প্রয়োজনীয় ওষুধ, অক্সিজেন, হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা, ভেন্টিলেটর, আইসিইউ ও এইচডিইউ সুবিধাসম্পন্ন কোভিড হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তার দিকটিও গুরুত্ব পাচ্ছে। তাদের জন্য কেএন-৯৫ মাস্ক, পিপিই ও ফেস শিল্ড নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
এদিকে আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের মাধ্যমে নতুন ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় দেশের প্রতিটি বন্দরে আইএইচআর ডেস্কগুলোকে আরও সক্রিয় করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে নিয়োজিত কর্মকর্তাদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।